সিনেমার হালচাল - চলচ্চিত্র চিত্রায়ণ

Thursday, April 27, 2017

On April 27, 2017 by Jakia   No comments

সাম্প্রতিক সময়ে একটি কথা প্রায় ক্লিশেতে পরিণত হয়েছে যে আমাদের দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপক অবনতি হয়েছে, চলচ্চিত্রকাররা অসুস্থ ধারার সিনেমা নির্মাণ করছেন !

এই যে অসুস্থ ধারা (!!!) চলছে তার পেছনের কারণ আসলে কী?

আমাদের চলচ্চিত্র জগৎের দুই কিংবদন্তীর নাম এখানে উল্লেখ করছি জহির রায়হান এবং তারেক মাসুদ । তাঁরা দুজনই বিকল্প ধারার সিনেমা নির্মাণ করেছেন । নির্মাণ করেছেন প্রতিবাদী রাজনৈতিক সিনেমা, সিনেমার কন্টেন্ট এর ম্যাধমে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এর মাধ্যমে , সংলাপ, দৃশ্যায়ন এর ম্যাধমে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন সিস্টেমকে । কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এই দুই মেধাবী ব্যক্তিত্বকে অকালে হারিয়েছি। তাঁরা দুজন যদি অকালে মৃত্যু মুখে পতিত না হতেন তাহলে হয়ত আজ আমাদের সিনেমা জগৎ নিয়ে সমালোচনা অনেকাংশেই কমে আসত। আমরা যখন ভারতীয় সিনেমা নিয়ে মেতে আছি, আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ভারতে যাচ্ছেন সিনেমায় অভিনয় করতে ঠিক তখন ভারতীয় অভিনয়শিল্পী অমিতাভ বচ্চন , শুভশ্রী|

ভারতীয় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন

ভারতীয় অভিনেত্রী শুভশ্রী



এর পিছনে রাজনীতি ,রাজনৈতিক অর্থনীতি যেমন দায়ী ,ভারত আমাদের উপর যেমন আগ্রাসন চালায় তেমনি আমাদেরও দুর্বলতা আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তার গুনগত মান হারাচ্ছে।



তো প্রশ্ন হচ্ছে কেন তারেক মাসুদ. জহির রায়হান, সালাহউদ্দীন জাকি,মসিহউদ্দিন শাকের , আলমগীর কবীর , নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুৃৃ.. এদের মতো পরিচালক কেন হাতেগোনা ?

আমাদের দেশে তারেক মাসুদ এর ‘মাটির ময়না’, ‘রানওয়ে’ সেন্সরড হয় । ‘রানওয়ে’ সিনেমা পরিচালককে দর্শকের কাছে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দিতে হয়েছে। কাছাকাছি সময়ে ‘আয়নাবাজি’ ,‘অজ্ঞাতনামা’,সিনেমা মুক্তি পায় কিন্তু ‘আয়নাবাজি’ দেখার জন্য সিনেমা হলে উপচে পড়া ভীড় আর ‘অজ্ঞাতনামা’র কথাটি হয়ত অনেকে জানেই না।

আমাদের দেশের সিনেমায় চুম্বন দৃশ্য সেন্সরড হয় কিন্তু ধর্ষনের দৃশ্যায়ন হয় লম্বা সময় জুড়ে। ধর্ষনের শিকার নারী কি ধরনের বিকৃত চিৎকার করছে , ধর্ষণ করার জন্য ভিলেন নারীর পরিধেয় বসন এর কোন কোন অংশ খুলে ফেলছে, ছিঁড়ে ফেলছে তার দৃশ্যায়ন হয় বিস্তৃত । এই ব্যাপারটি কখনও সেন্সরড হয় না।

তাহলে পরিচালক কীভাবে আগ্রহী হবেন রাজনৈতিক সিনেমা তৈরিতে?

মাটির ময়না’ - র মতো রাজনৈতিক সিনেমা সেন্সরড হয়। কারণ এই সিনেমায় সরকারকে রাষ্ট্রব্যবস্থা কে সরাসরি সমালোচনা করা হয়েছে কিন্তু প্রোপাগান্ডা সিনেমা যেখানে একতরফাভাবে রাজনৈতিক চেতনা - যা যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করা হয় না। বরং দর্শকের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় স্বার্থ-সিদ্ধি আদায়ের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাধারা।



তার মানে সিনেমা সেন্সরশীপ এর প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সরকার বিরোধী মনোভাব বন্ধ করে রাখার জন্য রাজনৈতিক সিনেমা সেন্সরড হয়। পেছনে রয়েছে ব্যাপক এক রাজনৈতিক অর্থনীতি সস্তা-অগভীর জিনিস নিয়ে অডিয়েন্সকে মাতিয়ে রেখে সমাজের অসমতা, অসামঞ্জস্যতা থেকে অডিয়েন্সের চোখ সরিয়ে রাখার প্রয়াস। যাতে সিস্টেম তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে, আর সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদের জন্ম না হয়। একে চলমান টপ-ডাউন মডেল দীর্ঘস্থায়ী করার এক প্রক্রিয়াই বলা চলে।

0 comments:

Post a Comment